সম্পাদকিয় কথা: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধএ কিছু নিয়ম

0
14

 

১.ভাইরাস জীবন্ত প্রাণী নয়,এটি প্রোটিনের অণু (ডিএনএ) যা লিপিডের (চর্বি) মোড়কে মোড়ানো,এটা আমাদের নাক-চোখ-মুখের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে গেলে নিজের জেনেটিক কোড বদলে ফেলে শক্তিশালী ও আত্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

২.ভাইরাস যেহেতু কেবলই একটি প্রোটিন অণু এবং জীবন্ত নয়, তাই এটাকে মেরেও ফেলা যায় না।  তবে সে নিজে থেকে ধ্বংস হতে পারে,এটা কতক্ষণে ধ্বংস বা ক্ষয় হবে তা নির্ভর করে এর থাকার স্থানটির তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও স্থানটি কী উপাদানে তৈরি, তার ওপর।

৩.করোনাভাইরাস ভঙ্গুর কারণ সুরক্ষার জন্য তা কেবল একটি চর্বির স্তর দিয়ে মোড়ানো, এ কারণেই সাবান ও ডিটারজেন্ট ভাইরাসটি থেকে মুক্ত হবার সহজ উপায়।  সাবান ও ডিটারজেন্ট মূলত যেকোনও স্থানের তেল বা চর্বি সরাতে পারে,     তেল বা চর্বি সরানোর উদ্দেশে আমাদের অন্তত টানা ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে হয়।  যাতে করে প্রচুর ফেনা তৈরি হতে পারে।  এর ফলে ভাইরাসের ওপরের চর্বিও স্তর ভেঙে গিয়ে পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে যায়

৪.গরম তাপমাত্রা চর্বি গলাতে কার্যকর।  এজন্যে হাত বা কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রে অন্তত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা উচিত।  এছাড়া, সাবান ব্যবহারের ক্ষেত্রে গরম পানি ঠান্ডা পানির চেয়ে বেশি ফেনা তৈরি করতে পারে বলে ভাইরাসটিকে আরো দ্রুত অকার্যকর করতে পারে।

৫.অ্যালকোহল কিংবা অন্তত ৬৫% অ্যালকোহলের মিশ্রণ যে কোনো ধরনের তেল অথবা চর্বি ভাঙার জন্য উপযুক্ত ভাইরাসের শরীরের বাইরের চর্বির স্তর ভাঙতে অ্যালকোহলের মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়

৬.এক ভাগ ব্লিচ ও পাঁচ ভাগ পানির মিশ্রণ সরাসরি প্রয়োগে প্রোটিন ভেঙে যায়।  তাই এই মিশ্রণ ভাইরাসটিকে ভিতর পর্যন্ত গলিয়ে ধ্বংস করতে পারে।

৭. সাবান, অ্যালকোহল এবং ক্লোরিন যদি অক্সিজেন চালনা করা পানির (অক্সিজেনেটেড ওয়াটার) সঙ্গে ব্যবহার করা হয় তবে তা অপেক্ষকৃত দীর্ঘ সময় ধরে ভাইরাসের কার্যক্ষমতা ঠেকাতে সাহায্য করে। এর কারণ অক্সিজেন চালনা করা পানিতে থাকা পারঅক্সাইড ভাইরাসের প্রোটিনকে গলিয়ে ফেলতে পারে। এটি বিশুদ্ধ হলে ব্যবহার করা যেতে পারে তবে ত্বকের জন্য সুবিধাজনক নয়।

৮.ব্যবহৃত বা অব্যবহৃত পোশাক, কাপড় বা চাদর ঝাড়া দেওয়া যাবে না, কাপড় ঝাড়লে তা থেকে নিসৃত ভাইরাস কোথাও পড়লে সেখানেই আটকে থাকে।  কাপড় বা সমধর্মী জিনিসে ৩ ঘণ্টা, তামা বা কাঠে ৪ ঘণ্টা (যেহেতু তামা নিজেই জীবাণু ধ্বংস করতে পারে এবং কাঠ ক্রমাগত আর্দ্রতা হারাতে থাকে), হার্ডবোর্ডের ওপরে ২৪ ঘণ্টা, ধাতব জিনিসে ৪২ ঘণ্টা এবং প্লাস্টিকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাইরাসটি টিকে থাকতে পারে। ভাইরাস আছে এমন কিছুকে ঝাড়া দিলে বা তার ওপরে পালকের ডাস্টার ব্যবহার করলে ভাইরাসের অণুগুলো বাতাসে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ভাসতে পারে এবং মানুষের নাকে ঢুকে যেতে পারে।

৯.ভাইরাসটি সুস্থ এবং স্বাভাবিক ত্বকের ভিতরে সরাসরি প্রবেশ করতে পারে না

১০.বদ্ধ স্থানে ভাইরাসটির প্রকোপ বেশি হবে।  উল্টোদিকে উন্মুক্ত এবং বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে ভাইরাসের উপস্থিতি কম হবে।

১১.এটা অবশ্য অনেকবার বলা হয়েছে, তবু আরেকবার বললে ক্ষতি নেই যে, নাক, খাবার, দরজার লক, যেকোনও সুইচ, রিমোট কন্ট্রোলার, সেল ফোন, ঘড়ি, কম্পিউটার, টেবিল ও টেলিভিশন জাতীয় জিনিস ধরার আগে ও পরে হাত ধোয়া জরুরি। ওয়াশরুম ব্যবহার করলে হাত তো ধুতে হবেই

১২বারে বারে ধোয়া হাত ভালোমতো শুকাতেও হবে।  কারণ ত্বকের যেকোনও ফাটলে ভাইরাস লুকিয়ে থাকতে পারে। ত্বক আর্দ্রতাকারী লোশন বা ক্রিম যত ভারি ও তৈলাক্ত হয় তত ভালো।

১৩. হাতের নখ ছোটো করে কেটে রাখা উচিত যেন তাতে ভাইরাস ঢুকে থাকতে না পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here